+
দুই বোনকে গণধর্ষণ, একজনের আত্মহত্যা
 দুই বোনকে গণধর্ষণ, একজনের আত্মহত্যা

দুই বোনকে গণধর্ষণ, একজনের আত্মহত্যা

মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আদিবাসী স্কুলছাত্রী ও তার ছোটবোনকে ধর্ষণ করেছে কথিত প্রেমিক এবং তার তিন বন্ধু। এ ঘটনায় বাড়িতে ফিরে লজ্জা এবং ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে প্রেমিকা মেয়েটি। প্রথমে বিষয়টি অজানা থাকলেও ওই আদিবাসী মেয়েটির মোবাইল ফোনে প্রতারক প্রেমিকের ছবি ও তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ‘বিশ্বাসঘাতক’ আর ‘মৃত্যুর পর কবরে দু-মুঠো মাটি দেয়া'র ক্ষুদে বার্তায় বেরিয়ে আসে আত্মহত্যার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

ঘটনার ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাতে প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মিঠাপুকুর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।

 

 তার সহপাঠি ও প্রতিবেশী ছাত্রীরা জানায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ওই আদিবাসী মেয়েটি। রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের রতন মিনজির সাথে তার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে তাকে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় সে । এরপর সরাসরি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ঢোলভাঙা গ্রামে যায়। সেখানে রতন ও তার তিন বন্ধু মিলে একটি নির্জনস্থানে নিয়ে দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা বাড়ি ফিরে। তখন তারা অসুস্থ থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। এরপর লজ্জা এবং ক্ষোভে বিকেল ৫টার দিকে শয়ন ঘরে আত্মহত্যা করে বড়বোন।

 

তার প্রতিবেশী ছোটবোন বলেন, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে তার দিদিকে বিরক্ত করত, প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু দিদি তাতে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর থেকে তারা মোবাইলে এসএমএসে নিয়মিত কথা বলত। ধর্ষণের শিকার অপর স্কুলছাত্রীর মাসহ প্রতিবেশী অনেকেই বলেন, ধর্ষক পক্ষ হুমকি দিচ্ছে- সে তো আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে ধর্ষণের শিকার অন্যজনকে মেরে ফেলা হবে।এই ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি, ধর্ষণের মামলাও করেনি। এদিকে ঘটনার ৫ দিন পর নিহত মেয়েটির বোন বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন।

 

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, আদিবাসী স্কুলছাত্রী আত্মহত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। ওই সময় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর তার স্বজনকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক রতনের বাবা বুধুয়া মিনজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।



Published: 2019-04-25 12:45:29