+
শিশুদের আটকে পতিতাবৃত্তি: এসআই ও বান্ধবী র‌্যাবের জালে
শিশুদের আটকে পতিতাবৃত্তি: এসআই ও বান্ধবী র‌্যাবের জালে

শিশুদের আটকে পতিতাবৃত্তি: এসআই ও বান্ধবী র‌্যাবের জালে

কাজের প্রলোভন দিয়ে ২ মাস আগে পুলিশের এসআই মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) সিলেটে নিয়ে আসেন ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুটি মেয়েশিশুকে। সেই থেকে মেয়ে দুটির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। দুই মেয়ের জনক এসআই রোকন উদ্দিন তার বান্ধবী রিমা বেগমের সহায়তায় মেয়ে দুটিকে বাধ্য করে পতিতাবৃত্তিতে। 

প্রতিদিন অন্তত ২-৩ জন খদ্দেরকে সঙ্গ দিতে হতো তাদের। নানা চেষ্টা করেও শিশু দুটি অন্ধকার জগৎ থেকে বেরোতে পারেনি। যে ঘরে তাদের আটকে রাখা হতো সেখানে গড়ে তোলা হয়েছিল ইয়াবার মজুদও। তাদের ইয়াবা সেবনেও বাধ্য করা হতো। শেষ পর্যন্ত ইয়াবার চালানের খোঁজে র‌্যাবের অভিযানে গোটা বিষয়টি ফাঁস হয় এবং র‌্যাবের জালে আটকা পড়ে এসআই রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার সহযোগী বান্ধবী রিমা বেগম (৩৫)।

৭ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, লালাবাজার, সিলেটে কর্মরত রোকন উদ্দিন ২ মাস আগে রিমাকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়া নেন নগরীর দাড়িয়াপাড়ার মেঘনা এ-২৬/১ বাসার নিচ তলা। সেই থেকে পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি এ বাসায় ইয়াবার মজুদ গড়ে তোলা হয়। শনিবার মধ্যরাতে ইয়াবার বড় চালানের খবর পেয়ে ওই বাসায় অভিযান চালান র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা। এ সময় এসআই রোকন ও রিমাকে আটক করা হয়। 

রোকন সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়ার আবদুর রশিদের ছেলে ও রিমা নেত্রকোনার কালিয়াজুড়ি থানার আটগাঁওয়ের মৃত মফিজুল মিয়ার মেয়ে। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়েই দরজা না খুলে বাথরুমের কমোডে ইয়াবা ঢেলে ফ্লাশ করে তা নষ্ট করতে থাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর র‌্যাব দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তল্লাশি চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবা, ৬টি মোবাইল ফোন, ৬টি সিম কার্ড, পতিতাবৃত্তি ও ইয়াবা ব্যবসার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪২২ টাকাসহ মেয়ে দুটিকে উদ্ধার করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ে দুটি তাদের আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার কাহিনী তুলে ধরে। কাজের কথা বলে তাদের নিয়ে আসেন রিমা। আসার পরই তাদের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরপুরুষকে সঙ্গ দেয়ায় অনীহা প্রকাশ ও ইয়াবা সেবন করতে আগ্রহী না হওয়ায় তাদের দু’জনের ওপরই নির্যতন চালানো হয়। দুই কন্যাশিশুর একজনের বাড়ি (১২) কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার মাঝিকোনায় এবং অপরজনের (১৩) বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ফুলবাড়ী এলাকার। এসআই রোকন র‌্যাবকে জানিয়েছেন, রিমার সঙ্গে তার পরকীয়া ছিল। তারা দু’জনে মিলে সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে গরিব, অসহায় ও সুন্দরী মহিলা ও শিশুদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সংগ্রহ করে ইয়াবা সেবন করিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতেন। 

এর আগেও বিভিন্ন অপরাধে এ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। রোকন উদ্দিনের স্ত্রী দুই মেয়েকে নিয়ে নগরীর মুন্সীপাড়ায় বাস করে। রিমা বলেন, আড়াই বছর আগে রোকনের সঙ্গে তার পরিচয়। আগে সে পতিতাবৃত্তি করত। রোকনের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর দু’জনে মিলে ইয়াবা ব্যবসা ও সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজটিও চলছিল একই সঙ্গে। ইয়াবা সংগ্রহ করে রোকন এবং মেয়ে সংগ্রহের দায়িত্ব রিমা বেগমের। র‌্যাবের অভিযানে পর দাড়িয়াপাড়ার ওই বাসার কেয়ারটেকার আপ্তা মিয়া জানান, গত বছর ১ ডিসেম্বর ডিসি অফিসে চাকরির কথা বলে বাসা ভাড়া নেন রোকন। এরপর থেকেই ওই বাসায় প্রায়ই অপরিচিত লোকের আসা-যাওয়া ছিল।

তারা রোকনের বন্ধু বা রিমার ভাই পরিচয়ে বাসায় ঢোকাত। এলাকার একাধিক মুরব্বি জানান, এ রোডে আরও কয়েকটি বাসায় এরকম অপকর্ম চলছে। পুলিশকে বারবার বলার পরও কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি। র‌্যাবের অভিযানে তারা খুশি। 

জানতে চাইলে র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) মাঈনুদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, উদ্ধার দুই কন্যাশিশু, ইয়াবা, মোবাইল ফোন ও টাকাসহ আটক এসআই রোকন ও তার সহযোগী রিমাকে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া এপিবিএন-৭ এ নিরস্ত্র সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন এপিবিএন-৭ এর সহকারী অধিনায়ক জয়নাল আবেদীন।

 



Published: 2019-01-28 13:50:13