+
রাজনীতিতে অভিষেক শাফিনের
রাজনীতিতে অভিষেক শাফিনের

রাজনীতিতে অভিষেক শাফিনের

জাতীয় পার্টি থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শাফিন আহমেদ। শাফিন আহমেদ সংগীত তারকা। হুট করে রাজনীতিতে এলেন । কিন্তু অভিষেকটা ভালো হলো না। শাফিন ঋণখেলাপি—এই অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।

 

আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেমের দপ্তরে নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। বাছাইয়ে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য প্রার্থীরা হলেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) ববি হাজ্জাজ, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (পিডিপি) শাহীন খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম।

 

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ঋণ ও বিলখেলাপিরা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, শাফিন আহমেদ ব্যক্তি হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোড শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, যা তিনি সময়মতো পরিশোধ করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ঋণখেলাপি। এ ছাড়া তিনি সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ইউসিবিএল থেকে নেওয়া তিনটি ক্রেডিট কার্ডের বিলখেলাপি।

 

জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসি ক্রেডিট কার্ডের বিলখেলাপি হওয়ার বিষয়টিকে বড় ধরনের অনিয়ম বলে মনে করে না। বিল পরিশোধ করে আসার পর আপিলে ইসি সাধারণত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে। কিন্তু সিআইবি প্রতিবেদনটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, যে কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে আমাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি অবশ্যই আপিল করতে পারবেন।’

 

 

একই বিষয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, ‘সিআইবি প্রতিবেদন সন্দেহজনক। কারণ, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে আমি নিজে গিয়ে সিআইবির তালিকা দেখে এসেছি। সেখানে আমার নাম ছিল না, এখন কোথা থেকে এল? বিষয়টি সন্দেহজনক। আমি এর বিরুদ্ধে আপিল করব।’

 

এ ছাড়া এবার ডিএনসিসিতে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঋণখেলাপি হওয়ায় আজ বাছাইয়ে মোট ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তানজিনা হক, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুল্লাহ কাদির, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের শওকত চৌধুরী এবং ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের রাইসুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ ও মির্জা মো. ইলিয়াস।

 

২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ইসি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ওই সময় আওয়ামী লীগ বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। বিএনপি প্রার্থী করেছিল তাবিথ আউয়ালকে। এখন অবশ্য বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

 

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ফেব্রুয়ারি। ভোট গ্রহণ ২৮ ফেব্রুয়ারি।



Published: 2019-02-02 17:38:04