+
ব্রুনাইয়ে চালু হচ্ছে ইসলামী শাসন
ব্রুনাইয়ে চালু হচ্ছে ইসলামী শাসন

ব্রুনাইয়ে চালু হচ্ছে ইসলামী শাসন

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাইয়ে ইসলামি শরিয়া আইন চালু হয়েছে। বুধবার এ রাষ্ট্রটির সুলতান হাসানাল বলকিয়া এ আইন চালুর ঘোষণা দেন। এ নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নতুন এ আইনে সমকামিতা ও ব্যভিচারের জন্য পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। তবে সমকামিতা অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ ছিল ব্রুনাইয়ে। সমকামিতা নিষিদ্ধ করে এর শাস্তির বিধান করা হয়েছিল ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। দেশটির সমকামিতার সমর্থকরা এটাকে ‘মধ্যযুগীয় শাস্তির বিধান’ হিসেবে অভিহিত করে উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটিতে ৮০ শতাংশ মুসলিম রয়েছে।

ব্রুনাইতে নতুন শরিয়া দণ্ডবিধি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা যদি নিজেদের সমকামী বলে স্বীকার করেন অথবা অন্তত চারজন প্রত্যক্ষদর্শী তাদের এ ধরনের কাজ করতে দেখেন তবেই তাদের সমকামিতার দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে। তাছাড়া চুরির দায়ে অঙ্গচ্ছেদের মতো দণ্ডও রাখা হয়েছে আইনটিতে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির এক সমকামী ব্যক্তি বিবিসিকে বলেছেন, ঘুম থেকে ওঠার পর আপনি অনুভব করলেন প্রতিবেশীরা, আপনার পরিবারের সদস্যরা এমনকি রাস্তার পাশে বসে ভাজা চিংড়ি বিক্রি করা ওই সুন্দরী বৃদ্ধা নারীটিও আপনাকে আর মানুষ বলে ভাবছে না আর তারা পাথর ছুড়ে মারার সঙ্গে একমত।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনানুযায়ী, যে কোনো পরিস্থিতিতে পাথর ছোড়া, অঙ্গচ্ছেদ অথবা বেত্রাঘাত, আইনি সংস্থাগুলোর হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাক্ষর করলেও ব্রুনেই দারুস সালাম এখনও নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক শাস্তির বিষয়ে ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেনি। ২০১৪ সালে জাতিসংঘে দেশটির মানবাধিকার-সংক্রান্ত পর্যালোচনায় ওই ঘোষণাপত্রের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করে তারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মূল ঘোষণাপত্রে যে কোনো ধরনের নির্যাতনসহ ও অন্যান্য নিষ্ঠুর শাস্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ঘোষণা প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও এর অধিকাংশ ধারাগুলোই অনুমোদন করেনি ব্রুনাই।

এদিকে ব্রুনাইয়ের এই শরিয়া দণ্ডবিধির প্রথম অংশটি ২০১৩ সালে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।

দণ্ডবিধির মুলতবি বিধানগুলোতে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের নামে শিশুসহ যে কাউকে ঢিল ছুড়ে হত্যা ও অঙ্গচ্ছেদের শাস্তি দেওয়া যাবে। এ আইন নিয়ে ব্রুনাইয়ের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেছেন। তারা এখান থেকে ফিরে আসারও আহ্বান করেন।



Published: 2019-04-03 19:12:08