+
বিএনপির চারজনের মনোনয়নপত্র এক আসনেই!
বিএনপির চারজনের মনোনয়নপত্র এক আসনেই!

বিএনপির চারজনের মনোনয়নপত্র এক আসনেই!

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে শুধু বিএনপি থেকেই চারজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলটি বলছে, এক আসনে চারজনের মনোনয়নপত্র দাখিল রাজনৈতিক কৌশল। এ ছাড়াও এই দুটি আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফ্রন্টের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। সব মিলে দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মোট ১৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত মান্নান, দামুড়হুদার ইউএনও রফিকুল হাসান ও জীবননগরের ইউএনও সিরাজুল ইসলাম এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

 

চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও সদরের একাংশ) আসনে মোট ১১জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ বুধবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ কামরুজ্জামান ও শরীফুজ্জামান শরীফ অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি শামসুজ্জামান দুদুর (মোহাম্মেদ শামসুজ্জামান) পক্ষে সহোদর ভাই ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াহেদুজ্জামান বুলা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

 

বুধবার ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি তৌহিদ হোসেন ও মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ জাকের পার্টির সহযোগী সংগঠন যুব স্বেচ্ছাসেবক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি আলমাছ আলী ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সদস্য মেরিনা আক্তার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের (ইনু) জেলা সভাপতি সবেদ আলী এবং ইসলামী আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

 

অন্যদিকে বুধবার চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা, সদরের একাংশ) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাংসদ আলী আজগার টগর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি রুহুল আমীন (স্বতন্ত্র), নূর হাকিম (স্বতন্ত্র) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। একইদিন জেলা জাকের পার্টির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান ও গণফ্রন্টের নেতা লালন আহমেদ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দামুড়হুদার ইউএনওর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর আগে ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। সব মিলে এই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন সাতজন। এদের মধ্যে নূর হাকিম আওয়ামী লীগের এবং রুহুল আমীন ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী। 

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুহুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-২ আসন বাদ দিয়ে কোনো সমঝোতা হতে পারে না। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুল হক মালিক জামায়াত নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন চলে যায়নি। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’ চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলকে রাজনৈতিক কৌশল বলে দাবি করেন জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

 

জাসদ নেতা সবেদ আলী জানান, দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, জাসদ যে কটি আসন নিয়ে দর-কষাকষি করছে তার মধ্যে এই আসনটিও রয়েছে। অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা রয়েছে। সবেদ আলীর বিষয়ে জাসদ সিদ্ধান্ত নেবে।’



Published: 2018-11-28 22:04:30