+
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে প্রকোপ ৬২ জেলায়
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে প্রকোপ ৬২ জেলায়

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ছে প্রকোপ ৬২ জেলায়

দিন দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগী এবং নতুন এলাকার সংখ্যা। ৬২ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ৫৫ জনের বেশি। মঙ্গলবার নতুন করে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্ত্রী রয়েছেন।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীর ক্ষেত্রে মৃত্যুহার পাঁচ শতাংশ। প্রতিবছর একটি বা দুটি সেরোটাইপে ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ ঘটলেও এবার চারটি সেরোটাইপেই সংক্রমণ ঘটছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৬-৩০ বছর বয়সীরা। আগস্টে এ রোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের ফ্লোর, বারান্দাসহ বিভিন্ন খালি জায়গায় রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুধু জুলাইয়ের ২৯ দিনে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ১৮২ জন।

আর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৪০৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৯৫৩ জন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।

তবে বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রমতে, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১০ গুণ বেশি। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধূম্রজাল কাটছে না।

রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালে রোগীদের তিলধারণের অবস্থা না থাকলেও অধিদফতরের কন্ট্রোলরুমে তথ্য আসছে ১২টি সরকারিসহ মাত্র ৩৫টি হাসপাতাল থেকে। অথচ ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিবন্ধিত ও অপেক্ষমাণ বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যাই প্রায় ৩০০।

সেই হিসাবে মাত্র ৭ ভাগ ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর ৯৩ ভাগ তথ্যই অজানা থেকে যাচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরিস্থিতি উত্তরণে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সব প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

ওইদিন ঢাকার সব মেডিকেল কলেজসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেবে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডিপিএম (ডেঙ্গু) ডা. এমএম আক্তারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, বুধবার মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটি ডেসিমিনেশন করা হবে।

যাতে পরদিন তারা স্কুলের শিক্ষার্থীদের এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সম্পর্কে বলতে পারে। আমরা আশা করি, এই প্রক্রিয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের বাসা-বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অবস্থিত ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করতে সংক্ষম হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক গবেষণার বিষয়ে মঙ্গলবার ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু এবং এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব চিকিৎসকসহ সব মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ভাইরোলজি বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় ৬১২৯ জনের মধ্যে ১২৭৮ জনের ডেঙ্গুর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ গড়ে ২১ শতাংশ ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও পুরুষ অনুপাত হল ১:২ দশমিক ৭।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবছর একটি বা দুটি সেরোটাইপে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটলেও এবার ৪টি সেরোটাইপের ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই পুরুষ। যাদের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছর।

আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ শতাংশ এনএস১ পজেটিভি, ৬ শতাংশ আইজিএম পজেটিভ, ৫ শতাংশ আইজিএম ও আইজিজি পজেটিভ। অধ্যাপক মুন্সী বলেন, প্রতি ১০০ জন আইজিএম ও আইজিজি পজেটিভ রোগীর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশের ডেঙ্গু হেমোরিজিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিগত ৮ বছরের গবেষণায় একটি বিষয় স্পষ্টত প্রতিয়মান হয়েছে, এই সময়ে প্রতিবছর আগস্টে ডেঙ্গু সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করে। তিনি জানান, ভাইরোলজি বিভাগ থেকে বিনামূল্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এছাড়া বিগত ২০০০ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগে দেশে প্রথম নির্ণয় করা হয় এবং পরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া জানান, ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭০০ জন।

যাদের মধ্যে বয়স্ক ২২০০ জন এবং শিশু ১ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের সিবিসি ই পিবিএফ প্লাস, এন্টি ডেঙ্গু এনএস১, এন্টি ডেঙ্গু আইজিএম প্লাস আইজিজি ইত্যাদি রুটিন টেস্ট ফ্রি করা হচ্ছে। তাছাড়া ভর্তি রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সব পরীক্ষা ফ্রি করা হচ্ছে। ভর্তি রোগীকে সব ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে ২ জন রোগী আইসিইউ এবং এইচডিইউতে ভর্তি আছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ডেঙ্গু রোগীর বেড সংখ্যা ১৫০টি ছাড়াও মেডিসিন ও শিশু বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে।

সেখানে শিশু বিভাগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে আসছে। শিশু বহির্বিভাগে দুই সপ্তাহে ২০০ ডেঙ্গু রোগী চিহ্নিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৪ জন ভর্তি হয়েছে। ৩৪ জনের মধ্যে ডেঙ্গুজ্বর হল ১২, ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর ১৬, ডেঙ্গু শক সিনড্রম ৬ জন শিশু।

৫ জনের মৃত্যু : মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উপসচিব নুরুল আমিন নাহিদের স্ত্রী ফারজানা (৪২) ও লিটন হাওলাদার (২৫) নামে দু’জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

এছাড়া রূপা আক্তার জনি (২৫) নামে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। জানা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার ঢামেকে ভর্তি হন ফারজানা। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসির উদ্দিন এসব তথ্য জানান। ফারজানা হোসেনের মামাতো ভাই কবির হাওলাদার যুগান্তরকে জানান, ফারজানা হোসেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগে প্যানপ্যাসিফিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৬ দিন। সেখান থেকে সোমবার রাতে আইসিইউর জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোমবার দিনগত রাত দেড়টায় মারা যান তিনি। জানা গেছে, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া লিটন হাওলাদার পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢামেকের ৬০১ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন লিটন হাওলাদার মারা যান। গত ২৭ জুলাই তিনি ঢামেকে ভর্তি হন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া গ্রামে।

তার বাবার নাম আবদুল মজিদ হাওলাদার। লিটনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন ঢামেকের মেডিসিন বিভাগের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান ভুইয়া। মঙ্গলবার ঢাকার শ্যামলীর ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হাসপিটালে রূপা আক্তার জনি’র (২৫) মৃত্যু হয়। তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত পুলিশ দুলাল হেসেনের স্ত্রী।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে আধ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যান তারা।

এদের মধ্যে রয়েছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের নাসির খানের ছেলে আসলাম খান (২৪) ও পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ঘোষনতারা গ্রামের মো. আদম আলীর মো. সোহেল (১৮)।

শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসএম বাকীর হোসেন বলেন, মৃত দুইজনই ঢাকায় ছিলেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। দুইজনই শেষ মুহূর্তে মেডিক্যালে ভর্তি হন।

তাদের মধ্যে আসলাম খান সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভর্তি হন। মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে মারা যান তিনি। অপরজন সোহেল সোমবার রাত ১টা ২০ মিনিটে এই হাসপাতালে ভর্তি হন।

মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটে মারা যান তিনি। ডা. এসএম বাকীর হোসেন আরও বলেন, আশঙ্কাজনক দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের চিকিৎসায় যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।

ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, ঢাকার বাইরে ইতিমধ্যে ৬০ জেলায় ডেঙ্গুজ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকা জেলায় ১৫৯, গাজীপুরে ৯৯ জন, গোপালগঞ্জে ৫, মাদারীপুরে ১৭, মানিকগঞ্জে ৩২, নরংসিংদীতে ২১, রাজবাড়ীতে ২৭, শরীয়তপুরে ৯, টাঙ্গাইলে ৩৭, মুন্সীগঞ্জে ১৮ জন, কিশোরগঞ্জে ৮৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৯, ফরিদপুরে ২ জন। চট্টগ্রামে ১৪৩ জন, ফেনীতে ৭০ জন, কুমিল্লায় ৫১ জন, চাঁদপুরে ৮৮ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০ জন, লক্ষ্মীপুরে ২২ জন, নোয়াখালীতে ৩০ জন, কক্সবাজারে ১৩ জন, খাগড়াছড়িতে ৫, রাঙ্গামাটিতে ৩, বান্দরবানে ১ জন।

খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৪৮ জন, কুষ্টিয়ায় ৫৮ জন, মাগুরা ৩ জন, নড়াইলে ২ জন, যশোরে ৭১ জন, ঝিনাইদহে ২৫ জন, বাগেরহাট ৮ জন, সাতক্ষীরা ১৭ জন, চুয়াডাঙ্গা ৬ জন, মাদারীপুরে ১ জন। রাজশাহীতে ৬২, বগুড়ায় ৯২ জন, পাবনায় ৪৭ জন, সিরাজগঞ্জে ১৯ জন, নওগাঁয় ৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১১, নাটোর ২ জন।

রংপুর ৬২ জন, লালমনিরহাট ২ জন, কুড়িগ্রাম ৫ জন, গাইবান্ধা ৪ জন, নীলফামারী ৫ জন, দিনাজপুর ১৭ জন, পঞ্চগড় ১ জন, ঠাকুরগাঁও ৪ জন। বরিশালে ৪২ জন, পটুয়াখালী ১২ জন, ভোলা ৬ জন, পিরোজপুর ২ জন, ঝালকাঠি ১। এছাড়া সিলেটে ৮০ জন, সুনামগঞ্জে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ জন, জামালপুরে ২৭ জন এবং শেরপুরে ১১ জন। সব মিলিয়ে ঢাকার বাইরের ৬০ জেলায় ১৮৪৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া যুগান্তরে প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ ও বরগুনায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ৬২ জেলায় ডেঙ্গুজ্বর বিস্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেয়ার পরেও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের গুনতে হচ্ছে ২৫০ টাকা করে।

যুগান্তরের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, রোগীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মো. আক্তারুজ্জামান রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশনা বিলম্বে আসায় যথানিয়মে টাকা নেয়া হয়েছিল। তবে যেসব ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা বাবদ টাকা নেয়া হয়েছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ে ‘মনিটরিং সেল’ গঠন : চলমান ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত জনভোগান্তি নিরসনে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্মকাণ্ড তদারকি করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় রোগ সংক্রান্ত ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’ নামে পৃথক সেল গঠন করা হয়েছে।

এই সেলে’ ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন হলে, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ জানাতে হটলাইনে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ০১৩১৪-৭৬৬০৬৯/ ০১৩১৪-৭৬৬০৭০, ০২-৪৭১২০৫৫৬/ ০২-৪৭১২০৫৫৭; ই-মেইল: ministermonitoringcell-gmail.com।

বিএমএ’র বিবৃতি : দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ। সংগঠনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ অন্যান্য বছরের তুলনায় ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নিয়োজিত চিকিৎসকরা রোগীদের সুস্থ করে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দক্ষতায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের ফলে এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু ও মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভবপর হয়েছে।

ঔষধ প্রশাসনের তৎপরতা : ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট এবং রিয়েজেন্ট সরাসরি আমদানি সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।

সভায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট বাজারে অপ্রতুল হওয়ায় শনাক্তকরণের কীট আমদানির ওপর আরোপিত ট্যাক্স ও ভ্যাট মওকুফের দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে ডেঙ্গু কীট আমদানির ক্ষেত্রে এলসি করলে বিদেশি ব্যাংক কর্তৃক গ্রহণ করতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লাগে।

ফলে শিপমেন্ট পেতে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় লাগে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কীট আমদানিতে এত সময় লাগলে কীটের অভাবে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হবে। তাই সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্বল্প সময়ে কীট আমদানির জন্য সরাসরি আমদানি সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়।



Published: 2019-07-31 10:23:36