+
টিভি নাটকে সঙ্কট বাড়ছেই
টিভি নাটকে সঙ্কট বাড়ছেই

টিভি নাটকে সঙ্কট বাড়ছেই

দীর্ঘসময় ধরে একই ছকের মধ্যে আটকে আছে টিভিনাটক। চারদিকে শুধু সঙ্কট। এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বহুবার একত্রিত হয়েছেন এই অঙ্গনের মানুষরা। গত শুক্রবার ‘পেশাদারিত্বের সঙ্কটে দেশের টেলিভিশন নাটক ও অভিনয় শিল্প’ নামের একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে অভিনয়শিল্পী সংঘ। 

এই অনুষ্ঠানে ছোটপর্দার নানা সঙ্কটের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ক্ষোভও প্রকাশ করেন অনেকে। অনুষ্ঠানে অভিনয়শিল্পীরা বলেছেন, বাজেট স্বল্পতা, বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অব্যবস্থানা, শিল্পের প্রতি উদাসীনতা, অতিমাত্রায় বাণিজ্য ভাবনা, অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচার, ভুল ও মনগড়া টিআরপি রেটিংয়ের আড়ালে দেশীয় নাটক ধ্বংস করছে টিভি চ্যানেলগুলো।

এসব সমস্যার কারণেই দেশীয় টিভিনাটকের পটভূমি ছোট হয়ে আসছে, গল্পের চরিত্র কমে যাচ্ছে। শতশত অভিনয়শিল্পী কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং দর্শকপ্রিয়তা হারাচ্ছে টিভিনাটক। এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বেশকিছু বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন শিল্পীরা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—টেলিভিশন নাটককে শিল্প ঘোষণা করা, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাব, নাটকের মান নিয়ন্ত্রণে অধিকাংশ টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যর্থতা কিংবা উদাসীনতা, নাটকে কতিপয় মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ, নাটকের মূল্য কমে যাওয়া, চরিত্রাভিনেতাদের হারিয়ে যাওয়া, বিজ্ঞাপন বাণিজ্য, তথাকথিত টিআরপি, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া (২০১৭ সালের জুলাইয়ে চুক্তি হয়েছিল), নাট্য নির্মাণে বহুমুখী নিম্ন প্রতিযোগিতা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব।টিভিনাটকের দর্শক কমে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বাজেট স্বল্পতা। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ বলেন, ‘নাটকের বাজেট কমছেই। বাজেট অল্প হলে কি ভালো নাটক নির্মাণ করা সম্ভব? আমরা একটি চক্রের মধ্যে বাঁধা পড়ে গেছি। আর এই কারণে নাটকের দর্শকও দিনদিন কমছে। এই কারণে নাটকে অভিনয় করার পরও শুনতে হয়, আপনাকে তো এখন নাটকে দেখা যা

টিভিনাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিটা দিনদিন উন্নতি করতে পারতো। কিন্তু অবনতি হচ্ছে। বেশকিছু সঙ্কট নিয়ে এগুচ্ছি আমরা। নাটকের বাজেট সবচেয়ে বড় সমস্যা। টিভি চ্যানেলগুলো চাইলেই উত্তরণ সম্ভব।নাটকের চলমান সঙ্কট নিয়ে দিলারা জামান বলেন, ‘নাটকের এই অবস্থা দেখে আমিও হতাশ। আস্তে আস্তে চ্যানেল বাড়ার ফলে কাজের পরিধিও বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু নাটকে তৈরি হওয়ার সঙ্কটের ফলে আল্টিমেটলি তা হচ্ছে না। এই সঙ্কট খুব সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়, আরো সময় লাগবে।

শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সঙ্কটের উত্তরণের পথ খুঁজতে উপস্থিত ছিলেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি ও অভিনেতা শহীদুল আলম সাচ্চু, সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব নাসিম, হিল্লোল, আজাদ আবুল কালাম, চয়নিকা চৌধুরী, সুইটি, চিত্রলেখা গুহ, মোহন খান, তানিয়া আহমেদ, সুমন আনোয়ার, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, জাকিয়া বারী মম, শামিমা তুষ্টি, রওনক হাসান, আহমেদ রুবেল, মাজনুন মিজান, বৃন্দাবন দাস, এসএ হক অলিক, সনি রহমান, কেএস ফিরোজ, মৌটুসি বিশ্বাস, লুত্ফর রহমান জর্জ, এজাজ মুন্না, মোস্তফা মনন, সাজিন হাসান বাবুসহ অনেকে।



Published: 2018-11-04 16:48:22