+
চাইলে কি যেতে পারি প্রিয় কাটনার পাড়ায়
চাইলে কি যেতে পারি প্রিয় কাটনার পাড়ায়

চাইলে কি যেতে পারি প্রিয় কাটনার পাড়ায়

আমার প্রিয় শহর বলতে বগুড়া সদরের কাটনার পাড়াকেই বুঝি। যেখানে আমি বড় হয়েছি। দীর্ঘ ১৬ বছর কেটেছে ওই শহরের অলিতে গলিতে। শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি, স্কুল, কলেজ জীবনের কিছু অংশ আমার ওখানেই কেটেছে। শৈশব কাটানো সে শহরে কত রকম স্মৃতি আছে সবই কী বলা যায়? ছোটবেলা থেকে পারিবারিকভাবে খুব শাসনের মধ্যেই বড় হয়েছি। বাসা থেকে খুব একটা বের হতে পারতাম না। তবুও কে বারণ মানে? আমার বান্ধবীরা বেশিরভাগই ছিল মুসলিম।

ঈদ এলে তারা আমাকে বাইরে নিয়ে যেত। ঘুরতাম, অনেক আনন্দ করতাম। বান্ধবীদের মধ্যে রিকশার কেউ ওপরে বসতাম কেউ নিচে বসতাম। রিকশাওয়ালার কষ্ট হতো। তবুও আনন্দ তো ছিলই। রাস্তার পাশের টঙ দোকানে ছেলেরা বসে শিস দিত। আমরা ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তাম। ছেলেরা আমাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করত। মাঝে মাঝে বলতে শুনতাম, ‘এ তোমরা কি ফ্রি আছ? সময় হবে?’ এসব তখনকার সময় সবার কাছে বিরক্ত লাগত। এখন এগুলো খুব মিস করি। স্কুল জীবনে আমার একটি বিষয় খুব মনে পড়ে। আমি, বৃষ্টি, চুমকি, নীলা, মীম, রীতা এ সাত বান্ধবীকে সবাই ‘ব্যাটেলিয়ন গ্রুপ’ বলে ডাকতেন। ক্লাসে আমাদের একজনকে স্যার পড়া জিজ্ঞেস করতেন। প্রথমজন যদি পারত তবে আর কাউকে জিজ্ঞেস করতেন না।

 

বলতেন, ‘সবাই পারবা আজ।’ আর যদি প্রথমজন পড়া না পারত তবে অন্য ছয়জনকে পড়া জিজ্ঞেস করতেন না। প্রথম বান্ধবীর সঙ্গে বাকি ছয়জনকেও পিটাতেন। আমরা সাত বান্ধবী সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে মার খেতাম, আনন্দ করতাম আবার ঝগড়াও করতাম। এ যে মার খাওয়া তাতেও অনেক আনন্দ ছিল। এখন এসব শুধুই স্মৃতি। চাইলেও সবাই এক হতে পারছি না। মন কাঁদে ফিরে যেতে সেই দিনগুলোয়। আমার প্রিয় শহর বগুড়ার বুকে পাটনার পাড়ার অলিতে গলিতে। কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে প্রিয় শহরে যাওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু বান্ধবীরা তো নেই। সবাই সবার কাজে ব্যস্ত। এখন শুধু তিন বান্ধবীর সঙ্গে কথা হয়। বাকি চারজনের খবর নেই। সবাই আর একসঙ্গে মিলিত হই না কত দিন। খুব মনে পড়ে প্রিয় শহর ও বান্ধবীদের কথা।



Published: 2019-03-14 18:58:07