+
গৃহকর্মীর হাতে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
গৃহকর্মীর হাতে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

গৃহকর্মীর হাতে শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

চাকরি করেন বাবা-মা দুজনেই।গৃহকর্মীর কাছে তাদের আদরের শিশু সন্তানকে রেখে যান বাসায়।কিন্তু সেই গৃহকর্মী নির্দয়ভাবে মারধর করছেন শিশুটিকে।

আর সেই দৃশ্য অফিসে বসে দেখলেন বাবা। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী বাথরুম থেকে একটি শিশুকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দেন। এরপর ক্রন্দনরত শিশুটিকে টানা কয়েকদফা লাথি মারতে থাকেন ওই নারী।

ছোট্ট শিশুর প্রতি এমন হিংস্র আচরণে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। রেশমা শারমিন নামের এক নারী লিখেছেন, ‘ওহ আল্লাহ, দয়া করে আমাদের শিশুদের রক্ষা করো।’

আবদুল্লাহ আল রোমান লিখেছেন, ‘সরকারি অফিস হোক কিংবা বেসরকারি সবখানেই একটি বেবি কেয়ার ইউনিট রাখা উচিৎ। ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই।

আমার মনে হয় এই নারীর কোনো ছেলে সন্তান নাই। এই নারী মানুষ নামের জানোয়ার। আত্মবিশ্বাসের জায়গায় অবিশ্বাস্য যে কাজ করেছে মানবতাকে হার মানায়।জহিরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।’

জানা গেছে, রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। শিশুটির মা লুৎফুন্নাহার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ দম্পতির একমাত্র শিশু আবদুল্লাহ আবতাই আয়াতের বয়স মাত্র দুই বছর। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরিজীবী হওয়ায় শিশু সন্তান আয়াতকে বাসায় গৃহকর্মী শাহিদা ওরফে তাজনারার (৪৫) কাছে রেখে যেতেন।

যার কাছে আদরের সন্তানকে রেখে আসতেন, সেই গৃহকর্মী শাহিদাই নির্মম মারধর করেন দুই বছরের শিশুটিকে। যেটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে শাহজাহানপুর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা করেন আল আমিন সরকার।

এ ঘটনায় পরে অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শিশুটির বাবা আল আমিন সরকার জানান, আমি একজন অসহায় বাবা, যাকে দেখতে হয়েছে দুই বছরের সন্তানকে বীভৎস মারের দৃশ্য! এই নির্যাতনের দৃশ্য দেখেও কিছু করতে না পারার আক্ষেপে পুড়ছি আমি।

বাচ্চাটা মার আর লাথির ভয়ে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে, ‘বাবা’ বলতে যেন ভুলেই গিয়েছিল! তিনি আরও বলেন, বাবুকে মারধরের বিষয়ে কোনোভাবে আমার স্ত্রী সন্দেহ হওয়ায় বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলে।

সে অনুযায়ী গত ৮ নভেম্বর আমি বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসাই। কিন্তু ক্যামেরার বিষয়টি আমরা শাহিদাকে বুঝতে দেইনি। ক্যামেরা বসানোর ৫ দিনে যা ধরা পড়েছে, সেগুলো তেমন কিছু না।

কিন্তু ১৪ নভেম্বর আমি অফিসে বসে বাসার ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আইপি ক্যামেরা হওয়ায় স্মার্টফোনেই লাইভ দেখা যেতো। সেদিনই অফিসে বসে গৃহকর্মীর হাতে শিশুকে ভয়ংকর এ মারধরের ঘটনা চোখে পড়ে।




Published: 2019-11-18 21:48:59