+
গজ-ব্যান্ডেজ পেট থেকে বের হলো সিজারের সাড়ে ৩ মাস পর
গজ-ব্যান্ডেজ পেট থেকে বের হলো সিজারের সাড়ে ৩ মাস পর

গজ-ব্যান্ডেজ পেট থেকে বের হলো সিজারের সাড়ে ৩ মাস পর

ফরিদপুরের হাড়োকান্দি এলাকার মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সাফা-মক্কা পলি ক্লিনিকে গজ-ব্যান্ডজ  পেটের ভেতর  রেখে সেলাই করা হয় এক প্রসূতির অপারেশনের সময় ।

আর প্রসূতির অপারেশন করেন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক শ্যামল কুমার বিশ্বাস। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়লে গত বৃহস্পতিবার রাতে জরুরিভাবে অপারেশনের মাধ্যমে সেই গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়।এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

যদিও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো প্রসূতির স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন রোগীর স্বজনরা।

অভিযোগে জানা গেছে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মাজেদ শেখের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফরিদা বেগমকে (২৬) স্থানীয় ইউসুফদিয়া গ্রামের সেলিনা নামক এক নারীর মাধ্যমে গত ২৪ মে সাফা-মক্কা পলি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

সেই দিনই ফরিদাকে সিজার অপারেশন করেন ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাস। পরবর্তীতে কয়েকদিন পর হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যায় ফরিদা। বাড়ি যাবার কয়েকদিনের মধ্যে ফরিদার পেটে ব্যথা শুরু হয়।

স্থানীয়ভাবে ডাক্তার দেখিয়ে ব্যথার ওষুধ কিনে খেলেও দিনদিন ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। গত বৃহস্পতিবার ফরিদার স্বজনরা শহরের হ্যাপি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে।

সেখানে যাবার পর আলট্রাসনোগ্রামে ফরিদার পেটে গজ-ব্যান্ডেজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ফরিদার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই তার অপারেশন করা হয়। অপারেশন করেন হাসপাতালের চিকিৎসক স্বপন কুমার বিশ্বাস।

অপারেশনের পর ফরিদার পেট থেকে বড় আকারের প্রায় পচে যাওয়া একটি গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এ ঘটনাটি জানার পর রোগীর স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অপারেশনের পর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করার ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

ফরিদাকে ফের অপারেশন করেন সেই হ্যাপি হাসপাতালের চিকিৎসক স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, রোগীর অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন ছিল। সিজারের সময় রোগীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করা হয়।

ফলে সেই গজ পচে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে পেটে গজ-ব্যান্ডেজ থাকার পর রোগী যে বেঁচে আছে সেটিই আশ্চর্যজনক। তিনি বলেন, বর্তমানে রোগী সুস্থ আছেন এবং তিনি শংকামুক্ত।

রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই এর বিষয়টি জানতে বৃহস্পতিবার রাতে সাফা-মক্কা পলি ক্লিনিকে গিয়ে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক শ্যামল বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে যুগান্তরকে তিনি বলেন, কবে কোথায় সিজার অপারেশন করেছি তা খাতাপত্র না দেখে বলা সম্ভব নয়।

শুক্রবার সকালে হাসপাতালে আসলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যাবে। শুক্রবার সকালে ডা. শ্যামল কুমারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে সাফা-মক্কা পলি ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

রোগীদের স্বজনরা জানান, পেটের মধ্যে গজ ব্যান্ডেজ রেখে তা সেলাই করার পর তাদের রোগীর অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যায়। অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করে সেখান থেকে ফের অপারেশনের মাধ্যমে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়।

এতে করে তাদের বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে। তারা এ ঘটনার জন্য দায়ী চিকিৎসক এবং ক্লিনিক মালিকের বিচার দাবি করা হয়।



Published: 2019-09-13 22:00:08