+
এক নারী ২৭ বছর কোমায় থেকে আচমকা জেগে উঠলেন
এক নারী ২৭ বছর কোমায় থেকে আচমকা জেগে উঠলেন

এক নারী ২৭ বছর কোমায় থেকে আচমকা জেগে উঠলেন

২৭ বছর কোমায় থাকার পর জেগে উঠলেন এক নারী। জেগে উঠেই নিজের ছেলের নাম ধরে ডাকতে থাকেন তিনি।

এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে গত বছর। তবে গত ২২ এপ্রিল (সোমবার) সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ওই নারীর ছেলে ওমর ওবাইর।এর পর বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে চলে আসে।‘দ্য ন্যাশনাল’-এর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের কথা। একদিন ছেলেকে স্কুল থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ৩২ বছর বয়সী মুনিরা আবদুল্লাহ।এ সময় পথে একটি বাসের সঙ্গে তার গাড়ির সংঘর্ষ ঘটে। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে কোমায় চলে যান মুনিরা।হাসপাতালের বিছানায় বছরের পর বছর অচেতন থেকে অবশেষে ২৭ বছর পর জেগে ওঠেন।

ওমর ওবাইর জানান, ওই সময় আমার বয়স ছিল ৪। স্মৃতি হওয়ার পর থেকে মাকে অচেতন দেখে এসেছি। আজ আমার বয়স ৩১। মা আমাকে ওমর ওমর বলে ডাকছেন। এটা আমার প্রতি মহাআল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি বলেন, ওই সড়ক দুর্ঘটনার সময় আমি যেন আঘাত না পাই, সে জন্য মা আমাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে আহত হন এবং কোমায় চলে যান।
ডেইলি মেইল আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রথমে আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালে নেয়া হয় মুনিরা আবদুল্লাহকে। উন্নতর চিকিৎসার্থে তাকে লন্ডনে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, মুনিরা কোনো সাড়া না দিতে পারলেও ব্যথা অনুভব করতে পারেন।লন্ডনে কয়েক বছর চিকিৎসা শেষে আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন হাসপাতালে নেয়া হয় মুনিরাকে। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকে।

২০১৭ সালের দিকে আবুধাবির যুবরাজ জার্মানিতে মুনিরার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেখানে তার বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়।অবশেষে ২০১৮ সালের একদিন জার্মানির ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হঠাৎই জ্ঞান ফেরে মুনিরার।এ বিষয়ে ‘দ্য ন্যাশনাল’কে ওমর বলেন, সেদিন কী একটা বিষয় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝগড়া চলছিল আমার। ঝগড়া শুনেই হঠাৎ জেগে ওঠেন মা। এ সময় মা একটি গোঙানির মতো আওয়াজ করেন। তবে ডাক্তাররা বিষয়টি আমলে নেইনি তখন।

ওমর বলেন, ‘ওই ঘটনার তিন দিন পরের কথা। মায়ের পাশে ঘুমিয়েছিলাম। ঘুমের ঘোরে শুনতে পাই কেউ আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি জেগে দেখি মা আমাকে ডাকছেন। তখন আমি খুশিতে উড়ছিলাম। বহু বছর ধরে আমি এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম।’

মুনিরার জেগে ওঠা বিষয়ে তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওমরের বাকবিতণ্ডার সময় মুনিরার মনে হচ্ছিল তার ছেলে বিপদে আছেন। এটি তার ভেতর আলোড়ন তৈরি করে। নিজের সব অনুভূতি দিয়ে ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকেন। হয়তো ২৭ বছর আগের সেই সড়ক দুর্ঘটনার কথা মনে পড়ে যায় তার। তার জেগে ওঠার পেছনে এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হতে পারে।’এ ঘটনায় সেই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আলোড়ন তোলে। এমন ঘটনাকে ঐশ্বরিক বলে আখ্যা দেয় দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

উল্লেখ্য, মুনিরা আবদুল্লাহর ঘটনার মতো এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল টেরি ওয়ালিস নামের এক নারীর বেলায়। ১৯ বছর কোমায় ছিলেন তিনি। তার পর হঠাৎই একদিন জেগে ওঠেন টেরি।



Published: 2019-04-26 11:13:33